বগুড়া: বগুড়ায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উড়াল সড়কে বিকল একটি ট্রাকের পেছনে অপর একটি ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।তারা হলেন- বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার আনন্দ সরকারের ছেলে তাপশ সরকার (৩৫) এবং তার ছেলে তীব্র সরকার (১৮)। নিহত অপর একজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।আহত নূর ইসলামের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায়। তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের চাকা বিকল হয়ে গেলে সেটি ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে দাঁড় করানো হয়। চালক ও সহকারী চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় রংপুরগামী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন থেকে বিকল ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির কেবিন দুমড়ে মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই দুই ট্রাকের তিনজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করে।
নিহত তাপশ সরকারের শ্যালক নয়ন রায় জানান, ট্রাকটির চাকা নষ্ট হওয়ার পর তাপশ তার ছেলে তীব্রকে চাকা নিয়ে আসতে বলেন। পরে বাবা-ছেলে মিলে চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। এসময় পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক এসে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলে এবং ধাক্কা দেওয়া ট্রাকের একজন নিহত হন। বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। ট্রাকের কেবিন সম্পূর্ণ দুমড়ে মুচড়ে যাওয়ায় মরদেহ বের করতে বেগ পেতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কেবিনের ভেতর থেকে হতাহত দুইজনকে উদ্ধার করেন।
বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন ও মালামাল সড়ক থেকে সরানোর কাজ চলছে। নিহত তিনজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।