আনিছুর রহমান রুবেলঃ
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল ১২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০ টার সময় উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে উপজেলা অডিটরিয়ামে এ দিবস পালিত হয়।
এসময় উপজেলা সম্প্রসারিত ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালী বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায়,সেখানে এসে শেষ হয়।
সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ শিব্বির আহমেদ এর সভাপতিত্বে ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রহিমা বেগম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম,সমাজ সেবা কর্মকর্তা সুমন মধু এলজিইডি কর্মকর্তা আসিফ উল্লাহ,খাদ্য বিষয়ক কর্মকর্তা এ্যানি রহমান, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা কামরুন্নেছাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা- কর্মচারী, শিক্ষক শিক্ষার্থী,অবিভাবক ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।
এসময় সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শিব্বির আহমেদ বলেন,
আজ জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।
কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, কন্যাশিশু আমাদের সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ এবং একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান শক্তি। একটি কন্যাশিশুকে সুশিক্ষিত, আত্মনির্ভরশীল ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা মানে একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎকে আলোকিত করা।
আমরা জানি, আজকের কন্যাশিশুই আগামী দিনের মা, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রশাসক, উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত একজন যোগ্য নাগরিক। তাই তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ সৃষ্টি করা আমাদের সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
দুঃখজনক হলেও সত্য, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো অনেক কন্যাশিশু বাল্যবিবাহ, যৌতুকের কুপ্রভাব, বৈষম্য, নির্যাতন, ইভটিজিং এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং সম্মিলিত উদ্যোগ।
আমি বিশেষভাবে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই—ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করবেন না। সন্তানদের সমান অধিকার, শিক্ষা, পুষ্টি, চিকিৎসা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুন। কন্যাশিশুর মতামতকে গুরুত্ব দিন, তার স্বপ্ন দেখার অধিকারকে সম্মান করুন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি কন্যাশিশুর উপযুক্ত বয়সে বিয়ে, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ নিশ্চিত করা তার সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কোথাও বাল্যবিবাহের আয়োজন বা কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সিরাজদিখান উপজেলায় কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু তার পরিবারের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার দায়িত্ব।
আমাদের লক্ষ্য হতে হবে—এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো কন্যাশিশু লিঙ্গের কারণে অবহেলিত হবে না, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষার সুযোগ হারাবে না এবং নির্যাতন কিংবা বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে তার স্বপ্ন বিসর্জন দিতে বাধ্য হবে না। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আমি বিশ্বাস করি, পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কন্যাশিশুর জন্য একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। আজকের এই দিবসের অঙ্গীকার হোক—কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা করব, তার স্বপ্নকে সম্মান করব এবং তার এগিয়ে যাওয়ার পথে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সচেষ্ট থাকব।
জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সংগীত পরিবেশন ও নৃত্য পরিবেশনের আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।