নিজস্ব প্রতিবেদক:
অফিস কক্ষে নারীদের নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সরকার। চাকুরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মোহা. আব্দুর রকিব খান। সর্বশেষ তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২৭মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আমিরুল ইসলাম খান এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, ময়মনসিংহের ত্রিশালে সার্কেল এএসপি হিসেবে কর্মরত থাকাকালে মোহা. আব্দুর রকিব খান অফিস কাম বাসার একটি কক্ষে দীর্ঘদিন যাবৎ মেয়েদের নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ ও রাতে অবস্থান করতেন। এছাড়া ফুলবাড়ীয়া থানায় ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর বিশেষ ক্ষমতা আইনের হওয়া মামলা থেকে অব্যাহতি ও বেদখল হওয়া দোকান উদ্ধারে গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নেন।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পর কারণ দর্শানো হয়। কিন্তু অভিযুক্ত কর্মকর্তা আব্দুর রকিব খান যে ব্যাখা দেন তাতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। গুরুদণ্ড আরোপের সম্ভাবনা থাকায় তার অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দিতে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
দীর্ঘ তদন্তের পর তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আব্দুর রকিব খানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল তা প্রমাণিত হয়েছে। পুনরায় দ্বিতীয়বার অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং তিনি জবাব দেন। তবে তার অভিযোগ গুরুতর প্রমাণ হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি থেকে অপসারণের বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনে পরামর্শ চাওয়া হয়। সরকারি কর্ম কমিশন সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি মোতাবেক অসদাচরণের প্রমাণিত অভিযোগে একই বিধিমালার বিধি ৪ এর উপ-বিধি (গ) অনুযায়ী এএসপি রকিব খানকে ‘চাকুরি থেকে অপসারণ’-এর গুরুদণ্ড প্রদান করার পরামর্শ দেয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেহেতু আব্দুর রকিব খানের অসদাচরণ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ‘চাকুরি থেকে অপসারণ’ গুরুদণ্ড প্রদান করা হলো। একই সঙ্গে ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হলো। তিনি সাময়িক বরখাস্তকালীন কোনো বকেয়া প্রাপ্য হবেন না বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।