, |

মূলপাতা রাজনীতি

ছাত্রদলের নতুন কমিটি : শেষ সময়ে আলোচনায় তিন ছাত্রনেতা


প্রকাশের সময় :17 August, 2026 1:59 : PM

চূড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া। মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ও পরীক্ষিত ভূমিকা বিবেচনা করে নতুন ছাত্রনেতৃত্ব নির্বাচন করতে যাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। এখন শুধু বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘গ্রিন সিগন্যালের’ অপেক্ষা।

আসন্ন এই কমিটিতে শেষ সময়ে এসে সভাপতি পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রাজপথের ত্যাগী তিন ছাত্রনেতা—এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল, খোরশেদ আলম সোহেল এবং মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ।

মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক শক্তিশালী অবস্থান ও বিগত সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং ক্লিন ইমেজের কারণে এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল এর নাম সর্বমহলে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী, স্মার্ট ছাত্রনেতা রুয়েল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংসদের ২নং সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত রুয়েল ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে সবার দৃষ্টি কাড়েন। ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নিজ বিভাগে ঈর্ষণীয় ফলাফলের জন্যও সুনাম রয়েছে এ ছাত্রনেতার।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে তার সাহসী ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে তিনি যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানের কারণে হাইকমান্ড তাকে সভাপতি পদের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করছে।

খোরশেদ আলম সোহেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আরবি বিভাগের ছাত্র সোহেল বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং কারাবরণ করেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে তিনি পুলিশি নির্যাতন ও আটকের শিকার হয়েছিলেন।

মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্র রিয়াদ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে গিয়ে বারবার রিমান্ডসহ মাসের পর মাস জেল খেটেছেন। জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত জোরালো ও দৃশ্যমান। শীর্ষ পদের জন্য সেও হাইকমান্ডের বিশেষ নজরে রয়েছে বলে জানা গেছে।

রুয়েল, সোহেল এবং রিয়াদ ছাড়াও আসন্ন কমিটির সভাপতি পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সহ-সভাপতি রিয়াদ রহমান, সহ-সভাপতি সাফি ইসলাম, সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত।

বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় নতুন কমিটি গঠনে জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা, শিক্ষার্থীবান্ধব ইমেজ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সাংগঠনিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশা, জুলাই আন্দোলনে যারা রাজপথে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, সেই পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতারাই যেন ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের হাল ধরেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সব প্রক্রিয়া শেষ, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সবুজ সংকেত দিলেই নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

প্রসঙ্গত, এরই মধ্যে বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। গত ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথকভাবে বিদায়ের বার্তা দেন তারা। নিজেদের পোস্টে দুজনই ওইদিনকে ‘দায়িত্ব পালনের শেষদিন’ বলে উল্লেখ করেন। এর আগে, রাজধানীর গুলশানে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার।

২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে গঠন করা হয়েছিল ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি।

 


আরও খবর