, |

মূলপাতা আইন অপরাধ

সিরাজদিখানে কাউসার হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন


প্রকাশের সময় :1 September, 2025 5:44 : PM

ক্রাইম চিফঃ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নে মো. কাউসার খান হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ইমামগঞ্জ বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ইমামগঞ্জ বাজার হয়ে বাসাইল সড়কে গিয়ে শেষ হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একদল সন্ত্রাসী নির্ভয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী আতাউর রহমান অপুর নেতৃত্বে রোমান মাঝি, শরিফ হাওলাদার, হাসানসহ তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, মারামারি, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করেছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, কাউসার হত্যাকাণ্ড ছিল সেই সন্ত্রাসী তৎপরতারই ভয়াবহ উদাহরণ। প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে একজন নিরীহ তরুণের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ সাধারণ মানুষ এসব সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে কাউসার হত্যায় জড়িতদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হয় এবং খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি না দেওয়া হয়, তাহলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন।

নিহতের কাউসারের মা রিয়া খানম বলেন, ওদের যেন ফাঁসি হয় এরা দেশের মাটিতেই আছে এরা ধর্ষনকারী,সন্ত্রাসী,খুনী কেন তাদের প্রশাসন গ্রেফতার করছেনা। তাহলে কি এভাবেই কি ঘরে ঘরে এক এক করে মায়ের বুক খালি হবে।আমি সন্তান হারা হয়েছি আর যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয়। তিনি আরো বলেন আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমার সন্তানকে যারা হত্যা করছে সঠিক তদন্ত করে তাদের দোষীদের অবিলম্ব দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসী দেন।

এ সময় বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য জামাল হাওলাদার, বর্তমান ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য সেরু হাওলাদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাবু হাওলাদার, নিহত কাউসারের ফুপি তাহেরা খান, মা রিয়া খানম ও বাবা কাইয়ুম খান।

সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত কাউসারের বাবা বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮–১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের রাঙ্গাবালিয়া মৌলভী মাঠ এলাকায় মাটি ভরাট ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাসাইল গ্রামের অপু হাওলাদার ও ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জাকির খানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কাউসার খান গুরুতর আহত হন। ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।


আরও খবর