, |

মূলপাতা আইন অপরাধ

মালখানগর ইউনিয়ন হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিদের একটি নিরাপদ স্থান


প্রকাশের সময় :9 April, 2023 2:00 : AM

সিরাজদিখান মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানার মালখানগর ইউনিয়ন মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য হয়ে উঠেছে একটি নিরাপদ স্থান, যেখানে খুব সহজেই পাওয়া যায় যে কোন ধরনের মাদক।

জানা যায় পুলিশের তালিকায় মাদকের স্থান হিসেবে শীর্ষে রয়েছে এই ইউনিয়ন।

মালকানগর চৌরাস্তা এখন মাদকের হাট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, এখানে এমন কোন মাদক নাই যেটা পাওয়া যায় না, আইস,হেরোইন,ইয়াবা,গাঁজা, ও বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি মদ পাওয়া যায় এই ইউনিয়নে এমনটাই জানান এলাকার লোকজন। শুক্রবার ৭ এপ্রিল বিকেলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এরই প্রমাণ।

উপজেলার কাজিরবাগ গ্রামের মোঃ জাফরের বাড়ির দ্বিতীয় তলা বিল্ডিং এর নিচ তলায় প্রায় ছয় মাস যাবত বাসা ভাড়া নিয়ে মাদক এবং ঢাকা থেকে নারী এনে দেহ ব্যবসা করছেন হারাধন (৫৫) ও তার স্ত্রী শিরিন (৪০)।

হারাধনের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নে সে একজন হিন্দু এবং গাড়িচালক এরই অন্তরালে সে মাদক ব্যবসা করে, তার স্ত্রী শিরিন একজন মুসলিম, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে তার বাড়ি ।

বাসায় হেরোইন ও ইয়াবা বিক্রি করে এবং মেয়ে এনে দেহ ব্যবসা করায়, গত দুই মাসে তার বাসায় এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে,

এলাকাবাসী বাড়িওয়ালা জাফর কে অনেকবার বিষয়গুলো অবহিত করেছেন কিন্তু তিনি কর্ণপাত করেন নাই

গত শুক্রবার বিকাল ৪ টায় জাফরের বাড়ির ভাড়াটিয়া শিরিন ও হারাধন বাসায় বসেই হেরোইন ও ইয়াবা বিক্রি করছে, এসময় এলাকাবাসী কয়েকজন এক ব্যক্তিকে আটক করে এক পুড়িয়ে হিরোইন সহ,ঐ ব্যক্তি বলেন সে নাকি রিকশা চালক, সে স্বীকার করে ৮০০ টাকা দিয়ে শিরিন এর নিকট থেকে কিনেছে এই হিরোইন।

শিরিন ও হারাধনের নিকট থেকে সে মাঝে মাঝে সংগ্রহ করে এমনটাই জানান, তখন সেখানে কামাল মিয়ার ছেলে বাবু সহ শত শত মানুষ ভিড় করছেন কিন্তু ভাড়াটিয়ার গেট লাগানো ছিল। তখন তিনি থানায় ফোন দেন এবং ৩০ মিনিট পর ঘটনাস্থলে এসআই ফয়জুর সহ সঙ্গীয় ফোর্স হাজির হন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য এম এস আই জানান ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় খুলতে বলি ভিতরে দেখি ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের পারভীন আক্তার ৫৪ ও তার ছেলে জয় ২৬ মাদক ব্যবসায়ী মহিলাকে বডি তল্লাশি করছে। পারভীন মহিলার বুকের জামার ভেতর হাত ঢুকিয়ে টাকা বের করছে সেখানে রনি সহ আরো কয়েকজন ছিল, আমি বাইরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ভিতরে যাই জিজ্ঞেস করি কি কি পাওয়া গেল, প্রথমে পারভিন ও তার ছেলে স্বীকার করে না পরে ওখানে উপস্থিত রনি বলে আরে ইয়াবা ও হিরোইন পাওয়া গেছে এবং বেশ কিছু টাকা পাওয়া গেছে কিন্তু পারভিন তার ছেলেকে দিয়ে টাকা ইয়াবা ও হেরোইন দিয়ে ছেলেকে বের করে দেয় এবং কিছুক্ষণ পর ছেলে এসে বলে ৪০ পিস ইয়াবা ও তিন পুরিয়া হিরোইন পাওয়া গেছে, তখন সে বলে অনেকগুলো হিরোইন ইয়াবা ও টাকা তোমরা উদ্ধার করলা এখন তোমরা কম দেখাচ্ছ, ঠিক আছে পুলিশ কাছাকাছি আসছে তাদের কাছেই তোমরা বলো, এই কথা বলায় পারভীন ও তার ছেলে আমাকে মারতে আসে সেখানে উপস্থিত ছিল বাবুল কাজী ও আব্দুল কাদির সহ অনেকে তারা থামিয়ে দেয়, পরে পুলিশ এসে ফোন দেয় যে আমরা কিভাবে আসবো তখন আমরা কয়েকজন পুলিশকে আগাতে যাই।

এই সুযোগে পারভীন ও তার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী শিরিন ও হারাধনকে পেছনের গেট দিয়ে সরিয়ে দেয় পরে এসআই ফয়জুর ৪ পিস ইয়াবা ও ৩ পুরিয়া হেরোইন নিয়া যায় এবং পারভীন কে খবর দিয়ে যায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামিও বাকি মালামাল নিয়া থানায় হাজির করতে।

এই বিষয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার মোহাম্মদ ফয়জুর হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায় নাই পরে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক জানান বিষয়টি আমি অবগত না জেনে পরে জানাবো।


আরও খবর