সিরাজদিখানে প্রবাসীর ৫ ফুট চলাচলের রাস্তা বন্ধের চেষ্টার অভিযোগ
ক্রাইম রিপোর্টারঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দীর্ঘদিনের প্রায় ৫ ফুট প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের কাঁঠালতলী গ্রামের মোকশেদ আলী শেখ, খোরশেদ আলী শেখ, আল আমিন শেখ, মিনা বেগম ও পান্না বেগমের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন প্রবাসী মোঃ রাব্বি শেখ।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, পূর্বের একটি সালিশে জৈনসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দুদু প্রায় ৫ ফুট প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা রাখার ব্যবস্থা করেন। পরে আমিন আজিজ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই রাস্তা বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযোগকারী আরও জানান, সম্প্রতি বিষয়টি সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলীর নজরে এলে তিনি দীর্ঘদিনের ৫ ফুট চলাচলের রাস্তা বহাল রাখার কথা বলেন। পরে জৈনসার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ নাজিম শেখ স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বিষয়টি দেখেন এবং পূর্বের ন্যায় রাস্তা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেন বলে দাবি করেন রাব্বি শেখ। একই দিন তার নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তার কিছু অংশ ঢালাই করে চলাচলের উপযোগী করা হয় বলেও জানান তিনি।
রাব্বি শেখ বলেন, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তার মা, স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তান গ্রামের বাড়িতে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমিজমা ও বসতভিটার জায়গা নিয়ে বিরোধের কারণে তার পরিবার চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।
তার দাবি, ছোটবেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে তার মেজো চাচা মোকশেদ আলী শেখ তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরে নিরাপত্তার কারণে তার বাবা-মা তাকে নিয়ে প্রায় ছয় বছর মামার বাড়িতে অবস্থান করেন। বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ আরও জটিল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাব্বি শেখের ভাষ্য, নিজেদের বসতভিটায় ঘর নির্মাণের সময় তুলনামূলক পেছনের ও নিচু জায়গায় তাকে জায়গা দেওয়া হয়। ওই জায়গার মধ্য দিয়ে প্রায় ৫ ফুট প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা রাখার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে ইট, সিমেন্ট ও ঢালাইয়ের মাধ্যমে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করেন।
বর্তমানে তার ছোট চাচা আল আমিন শেখ ওই চলাচলের রাস্তার মধ্যে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পথটি সংকুচিত কিংবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল, নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার মা, স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি সন্তানদের নিয়েও হুমকি দেওয়ার কথা তিনি জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রাব্বি শেখের দাবি, পারিবারিক সম্পত্তিতে তার তিন ফুপুরও অংশ রয়েছে। ওই অংশের বিষয়টি আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে নির্ধারণ না করে সেটিকে সামনে রেখে তার চলাচলের রাস্তা দখল বা সংকুচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে এর আগেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ৫ ফুট রাস্তা রাখার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বর্তমানে প্রশাসনের মাধ্যমে সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত সীমানা, অংশীদারদের ন্যায্য হিস্যা এবং দীর্ঘদিনের চলাচলের পথের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রবাসী রাব্বি শেখ আরও বলেন, এজমালি সম্পত্তির সঠিক সীমানা নির্ধারণ, দীর্ঘদিনের ৫ ফুট চলাচলের রাস্তা রক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো পক্ষ যাতে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ করতে না পারে—এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমি কোনো সংঘাতে যেতে চাই না। আইন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান চাই। প্রবাসে থেকেও আমি চাই, আমার মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান যেন নিজেদের বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং আমাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথটি ব্যবহার করতে পারে।”
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী বলেন, “এটা একটি পারিবারিক ঝামেলা। আমি পূর্বের রাস্তা বহাল রাখার জন্য বলেছি। এরপরও যদি সমস্যা থাকে, তাহলে উভয়পক্ষ উপস্থিত থেকে বিষয়টি সমাধান করতে হবে। একপক্ষ বসে কোনো সমাধান হবে না। তারা উভয়েই প্রবাসী। উভয়পক্ষ উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা যেভাবে আছে, সেভাবেই থাকবে।”
এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগকারী প্রবাসী রাব্বি শেখ প্রশাসনের কাছে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ, চলাচলের রাস্তা রক্ষা এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
