চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানার মিরপুর আবাসিক এলাকায় অবৈধ পাহাড় কাটার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক কাদেরের ওপর হামলা, দেড় লাখ টাকা মূল্যের পেশাদার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক মহলসহ স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যেও অবৈধ পাহাড় কাটার অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শুক্রবার গভীর রাতে মিরপুর আবাসিক এলাকায় যান সাংবাদিক কাদের। তিনি ঘটনাস্থলে পাহাড় কাটার ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চেয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রাজু, ফারুক ও মফিজসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার সময় তাকে মারধর করা হয় এবং তার ব্যবহৃত প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি পেশাদার ক্যামেরা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাহাড় কাটা বা তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। সাংবাদিক কাদের জানান, অভিযুক্ত রাজু, ফারুক ও মফিজ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তাদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ছিনিয়ে নেওয়া ক্যামেরা উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার পর বিষয়টি আকবরশাহ থানায় জানানো হলে তদন্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।এদিকে, ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। তিনি সাংবাদিকের ওপর হামলাকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামানকে কঠোর নির্দেশ দেন।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপ-পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনার পর সোমবার সকাল থেকে আকবরশাহ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (এসি) রুহুল এবং তদন্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুকের নেতৃত্বে চার দফায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, “দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অভিযান চলছে।”স্থানীয়দের অভিযোগ, মিরপুর আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাকে তারা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত রাজু, ফারুক ও মফিজকে গ্রেপ্তার, ছিনিয়ে নেওয়া ক্যামেরা উদ্ধার এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।