, |

মূলপাতা আইন অপরাধ

তনু হত্যায় আরো দুই সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ


প্রকাশের সময় :21 July, 2026 8:55 : PM

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তারা হলেন—জাহিদুল ইসলাম ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বী। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (১ নম্বর আমলি আদালত) মুমিনুল হক তদন্তের স্বার্থে ওই দুই সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেন।তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আমরা আদালতের কাছে আবেদন করেছিলাম। আদালত ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছেন।’

সন্দেহভাজন জাহিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার মেঘাই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে। অপর সন্দেহভাজন ফয়সাল আহমেদ রাব্বী কুমিল্লার রাজাপাড়া-লক্ষ্মীনগর এলাকার এম এ হান্নানের ছেলে। এর আগে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ক্রস-ম্যাচ করা হয়েছে।এদিকে তনু হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিনুল আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শাহিনুল আলম কুয়েতে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান কোথায় রয়েছেন, তা জানা যায়নি। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি হাফিজুর রহমান বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটি তদন্ত করে। দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন না হওয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। এরপর প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।


আরও খবর